হাওজা নিউজ এজেন্সি: শনিবার (৪ এপ্রিল) ‘কাদেমুন গ্লোবাল ফোরাম’ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ ও আমেরিকার কৌশলগত পরাজয়ের সম্ভাব্য দৃশ্যপট’ শীর্ষক আলোচনায় সালামা আবদুল কাউয়ি বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন।
তিনি ইসলামি দেশগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক প্রভাব ও ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, এই প্রভাব সামরিক, রাজনৈতিক, গণমাধ্যম ও অর্থনৈতিক আধিপত্যের ফল। গত কয়েক দশকে এই প্রক্রিয়া অঞ্চলের অনেক দেশে অস্থিরতা ও সংকট সৃষ্টি করেছে।
ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া, ইয়েমেন ও সুদানের ঘটনাপ্রবাহকে তিনি মার্কিন হস্তক্ষেপবাদী নীতির অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করেন এবং বলেন, এখন এই চাপের মুখে পড়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।
আমেরিকার শক্তির পতনের ওপর জোর
আল-আজহার মিহরাব ইনস্টিটিউটের প্রধান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বিশ্বপর্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির পতনের নিদর্শন প্রকাশ্য হয়ে গেছে। আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন ও প্রতিরোধের বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে তিনি এই প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক সমীকরণে ‘একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, বিশ্ব ইসলাম ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এমন এক পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে যা শক্তির ভারসাম্য পালটে দিতে পারে।
ভবিষ্যৎ পরিবর্তনে ইসলামি দেশগুলোর ভূমিকা
সালামা আবদুল কাউয়ি ইরান, লেবানন ও ইয়েমেনের মতো দেশগুলোর ভূমিকাকে গুরুত্বারোপ করে বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এক ধরনের প্রতিরোধ ও শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তিনি এসব দেশে ‘টেকসই প্রতিরোধের’ উপাদানকে ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়ায় নির্ধারক ফ্যাক্টর হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইসলামি বিশ্বের ঐক্যের আহ্বান
তার বক্তৃতার মূল প্রতিপাদ্য ছিল মুসলমানদের মধ্যে ঐক্যের ডাক। তিনি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মিলের ওপর জোর দিয়ে বিশ্বের সব মুসলমানকে ধর্মীয় ও জাতিগত পার্থক্য ভুলে সম্মিলিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বিশ্ব ইসলামে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতি অর্জনের জন্য ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে সম্মিলন ও সহযোগিতা জরুরি।
ইসলামি পবিত্র স্থানগুলোর গুরুত্ব
অন্য অংশে তিনি ইসলামি পবিত্র স্থান, বিশেষ করে মসজিদুল আকসার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, এটি বিশ্ব ইসলামের ঐক্যের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। এসব স্থানের সুরক্ষার জন্য সংহতি ও যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন।
পরিশেষ ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা
শেষ দিকে তিনি ‘বর্তমান সংকটময় পর্যায়ে’ মুসলিম নেতৃবৃন্দ, আলেম ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, নিজেদের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে একটি ভিন্ন ভবিষ্যৎ গঠনের চেষ্টা করতে। তার মতে, বিশ্ব একটি নতুন পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে এবং বিশ্ব ইসলাম এই পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
‘কাদেমুন গ্লোবাল ফোরাম’ আয়োজিত এই বৈঠকটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিবর্তনের সম্ভাব্য দৃশ্যপট পর্যালোচনার জন্য নিবেদিত ছিল, যেখানে বিশ্ব ইসলামের একদল চিন্তাবিদ ও বিশ্লেষক অংশ নেন।
আপনার কমেন্ট